You are currently viewing মানুষের পায়ু পথে ফিসটুলা কেন হয় বা এর লক্ষণগুলো কি?

মানুষের পায়ু পথে ফিসটুলা কেন হয় বা এর লক্ষণগুলো কি?

পায়ু পথে ফিসটুলা : মানুষের শরীরে নানা ধরনের রোগ হয়ে থাকে। বিভিন্ন রোগের মধ্যে কিছু রোগ আছে খুব সিম্পল আবার কিছু আছে মারাত্বক জটিল। মানুষের পায়ু পথে মারাত্বক কঠিন রোগ গুলোর মধ্যে ফিসটুলা একটি জটিল রোগ।বিভিন্ন কারণে মানুষের মলদ্বারে বা পায়ু পথে এই জটিল রোগ হয়ে থাকে। মানুষ যদি তার দৈন্দিন জীবন যাপন সঠিক ভাবে মেনে চলে এবং ভালো চিকিৎসা গ্রহন করে তাহলে পায়ু পথের পিসটুলা বা ভগন্দর থেকে মুক্তি মিলে।


ফিসটুলা বা ভগন্দর বিষেশজ্ঞ ডাক্তারা বলেন, এই পায়ু পথে নানা রকম ফিসটুলার জন্য বিভিন্ন ধরণের কৌশল রয়েছে। নানা কারণে আমাদের দেশের মানুয়ের পায়ু পথে ফিসটুলা হওয়ার হার অনেক বেশি।


এই রোগের শতকরা হার সঠিকভাবে নির্ণয় করা খুব কঠিন। তার অনেক কারণ রয়েছে।অনেক সময় রোগীরা পায়ুপথের এই রোগের অপারেশন করতে চায় না, অনেকই চায় বিনা অপারেশনে এই রোগের চিকিৎসা করানোর জন্য। কারণ হিসেবে অনেক রোগী মনে করেন এটা অপারেশন করালে যেহেতু নতুন করে আবার হয় তাই অনেক রোগী পায়ুপথের ফিসটুলার জন্য অপারেশনের জন্য কোন রিক্স নিতে চায় না তারা সাধারণত ওষদের মাধ্যমে এই রোগ সারতে চায়। আন্তর্জাতিক অনেক বিশেষজ্ঞ মনে করেন, ফিসটুলা অপারেশন করার পরও ৫-১০% রোগীর এই রোগ হওয়ার আশষ্কা থাকে।


পায়ু পথে ফিস্টুলা কি কি কারণে হয়ে থাকে?


মানুষের পায়ু পথে এই রোগটি হয় বিশেষ ধরণের সংক্রমনের জন্য। মানুষের পায়ু পথের মধ্যে বিভিন্ন ধরনের গ্রন্থি থাকে। আর বিভিন্ন কারনে এই গ্রন্থিগুলো ব্যাকটেরিয়ার মাধ্যমে আক্রান্ত হয়ে ফোড়া হয়। আর পায়ু পথের এই ফোড়া এক সময় ফেটে গিয়ে পুজঁ নির্গত হতে থাকে। আর এই ফাটার কারণে পায়ু পথে প্রচুর ব্যথা অনুভত হয়ে। যার ফলে রোগী প্রায় সারাদিন ব্যথায় চিৎকার কারতে থাকে। যতক্ষন না পর্যন্ত এই ফোড়ার ভেতর থেকে পুজঁ বের না হয়ে ততক্ষন পর্যন্ত ব্যথা থাকে। পুজঁ বের হওয়ার পর রোগীর ব্যথা কমতে থাকে। আর একেই আমরা গ্রাম বাংলায় ফিস্টুলা বা ভগন্দর রোগ বলে থাকি।


বিভিন্ন কারণে মানুষের পায়ু পথে ভগন্দর হয়ে থাকে। পায়ু পথে ক্যান্সার, প্রদাহজনিত রোগ,এবং পায়ু পথে যক্ষার জন্যও ভগন্দর হয়। এছাড়াও বিভিন্ন ধরনের ফিস্টুলা হয়ে থাকে।
পায়ু পথের ফিসটুলার নানা রকমের ফিস্টুলা নাম


খুব সাধারণ ফিস্টুলা : এই ভগন্দর পায়ু পথের মাংশপেশির খুব ভিতরে যায় না এর চিকিৎসা করা খুবই সহজ।


কঠিন বা ক্রিটিক্যাল ভগন্দর : এই ফিসটুলার বিভিন্ন মাত্রা রয়েছ এবং এটা অনেকটা নির্ভর করে এটি আসলে কতটা পায়ু পথের মাংসের ভেতরে প্রবেশ করেছে এবং কতটা জটিল পথ পাড়ি দিয়ে এটি বাইরের দিকে এসছে। এটি যদি খুব গভীরে প্রবেশ করে এগুলো সত্যিকারে চিকিৎসা করা খুব কঠিন। আর যদি রোগীর সঠিক ভাবে এই রোগের অপারেশন না করা হয় তাহলে অনেক সময় রোগীর পায়ু পথে মল ধরে রাখার ক্ষমতা হারিয়ে ফেল।


ভগন্দর বা ফিসটুলার উপসর্গ বা লক্ষণ গুলো কি কি


পায়ু পথে ফিসটুলার লক্ষণ মূলত তিনটি। যথাঃ-
১. পায়ু পথের মাংশ ফুলে যাওয়া,
২. পায়ু পথে প্রচন্ড ব্যথা হওয়া এবং
৩. মলদ্বারের ভেতর থেকে রক্তের মত লাল পচা পুঁজ বের হওয়া।


ডাক্তারা বলেন বেশির ভাগ মানুষ আমাদের কাছে আসে এবং বলে আগে পায়ু পথে ফোড়া হয়েছিল বলে জানান। আর পায়ু পথের ভিতরে ফোড়া হাওয়ার জন্য ফুলে গিয়ে প্রচন্ড ব্যথা হয়। পায়ু পথের ভিতর দিয়ে যখন পুজ বের হয় তখন ব্যথা কমে আসে এবং ফোলাও কমে যায়।


কেন পরীক্ষা-নিরীক্ষা প্রয়োজন ?


* এটা ধরার জন্য সিগময়ডসকপি।
* কোলনস্কপি করা যেতে পারে।
* বেরিয়াম এক্সরে করা যেতে পারে সঠিক চিকিৎসার জন্য।
* ফিস্টুলো গ্রাম : পায়ু পথের ভেতরে আঙ্গুল দিয়ে পরীক্ষা করাটা ডাক্তারের কাছে সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ ।

Leave a Reply