You are currently viewing কিয়মত কি? সঠিক হাদীস এর আলোকে কিয়ামতের আলামত

কিয়মত কি? সঠিক হাদীস এর আলোকে কিয়ামতের আলামত

কিয়ামতের আলামত : একজন মুমিন মুসলমানের উপর যে সকল বিষয়ের প্রতি ইমান আনার কথা বলা হয়েছে তা হলো পরকালের জীবন। যে জীবনের শুরু আছে যার কোন শেষ নেই। আমরা মানব জাতি ইহকালের বুক বিলাসের জন্য, চাওয়া পাওয়ার জন্য ভিবোর কিন্তু খুব কমই মানুষ আমরা পরকালের চিন্তা করি। পৃথিবির ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পাচ্ছে আর আমরা মানব জতি খুব তাড়াতড়ি কেয়ামতের খুব কাছে চলে আসছি।

আমাদের প্রিয় নবী হযরত মোহাম্মদ (সাঃ) এর বিভিন্ন হাদিসের কল্যানে আমরা আজ কিয়ামতের অনেক আলামত দেখতে পাচ্ছি। যার মধ্যে কিছু আলামত এরই মধ্যে দেখা যাচ্ছে যা অনেক ইসলামিক স্কলারদের মাধ্যমে বিভিন্ন হাদিস দ্বারা তা প্রমান হচ্ছে। আর বিভিন্ন ঘটনা দ্বারা প্রতিয়মান হচ্ছে কেয়ামত আমাদের খুব কাছাকাছি চলে এসেছে। তাই আমাদের প্রত্যেক মুসলমানের উচিৎ কেয়ামতের জন্য প্রস্তুতি নেওয়া।


একটি করে দিন, মাস, বছর যাচ্ছে, আমাদের নবী (সা.) এর কথা গুলো ধীরে ধীরে বাস্তবে রূপ নিচ্ছে। নিচে আমাদের প্রিয় নবী(সা.) কিয়ামত সমন্ধে বলে যাওয়া দশটি আলামত আলোচনা করা হলো।

কিয়মত কি? সঠিক হাদীস এর আলোকে কিয়ামতের আলামত


১. আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত আমাদের প্রিয় নবী (সা.) বলেছেন, ”আমার পরে পৃথিবীতে সর্বপ্রথম ইরাকে ফিতনা সৃষ্টি হবে। আমাদের প্রিয় নবী (সা.) দেওয়া ভবিষ্যদ্বাণী আজ সত্য হয়েছে । ”ু


২. প্রিয় নবী (সা.) বলেন, ”তাবুকের যে স্থানটিতে কূপ রয়েছে, সেটি কিয়ামতের আগে ফুলে-ফলে ভরে উঠবে। আজ কিন্তু আমরা দেখতে পাচ্ছি, তাবুকের ওই স্থানটি সত্যিই ফুল বাগানে ভরপুর।”


৩. প্রিয় নবীজি(সা.) আরও বলেন, ”প্রতিটি মানুষ এত পরিমাণ ধনী হয়ে উঠবে যে, কেউই জাকাত নিতে চাইবে না। আজ বিশ্বে কিন্তু এর প্রমান আমাদের কাছে স্পষ্ট।”
৪.প্রিয় নবী (সা.) আরও বলেন, “ কিয়ামতের আগে পৃথিবী জুরে দেখা দিরে অতিবৃষ্টি, খড়া,তীব্র ঠাণ্ডা ও দাবদাহসহ নানা ধরেনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ । আর এর ফলে ফসলী মাঠ ফসলহীন হয়ে পড়বে। আজ কিন্তু সারা বিশ্বে একের পর এক প্রাকৃতিক দুর্যোগ লেগে আছে।


৫. বিখ্যাত সাহাবী আবু হুরায়রা (রা.) থেকে আরও বর্ণিত নবী (সা.) বলেছেন, “মানুষের মধ্য থেকে যখন আমানতদারিতা উঠে যাবে, তখন তোমরা কিয়ামতের অপেক্ষায় থাকো।” এর অর্থ হলো— সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পৃথিবী থেকে আমানতের খিয়ানত হবে।


৬. আমাদের প্রিয় নবী (সা.) আরও বলেন “একটা সময় আসবে যখন পৃথিবীর সবচেয়ে ক্ষমতাধর রাষ্ট্রপ্রধানগণ বলতেই পারবে না যে, ইরাক আসলে কোথায় আছে। ”
৭. নবীজি (সা.) আরও বলেন, “চতুর্দিক থেকে ইসলামের ওপর এত পরিমাণ হামলা আসবে, যেভাবে নেকড়ের দল শিকারের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। ”
৮. তিনি আরও বলেন, ”কিয়ামত যত নিকটে আসবে পৃথিবীর মানুষ ব্যাপকভাবে ব্যভিচারে লিপ্ত হবে এবং তারা স্বীকার করবে, এটি একটি গর্হিত কাজ। ”
৯. কিয়ামতের আগে আগে মানুষ জন কাজকর্মে হালাল-হারামের কোন তোয়াক্কা করবে না। সুদের কারবার মানব সমাজে অধিক পরিমাণে বেড়ে যাবে।
১০. একশ্রেনীর মানুষ জন ষাঁড়ের লেজের ন্যায় এক ধরনের লাঠ ব্যবহার করবে এবং তা অপেক্ষাকৃত দুরবল শ্রেনীর মানুষের উপর ব্যবহার করবে।


উপরের এই আলামত দেখে সত্যিই উপলদ্ধি করা যায় যে, কিয়ামত খুব কাছাকাছি চলে এসেছে। তাই আমাদের প্রত্যিক মুসলমানের উচিৎ সব সময় ভালো কাজ করা, এবং দ্বিনের জন্য বেশি বেশি সময় দেয়া এবং শেষ বিচার দিবসের জন্য প্রস্তুতি নেওয়া।

Leave a Reply